বিশ্বকাপে কানাডার স্বপ্নের যাত্রা: প্রথম জয় ও ইতিহাস গড়ার রাত
২০২৬ বিশ্বকাপে কানাডা প্রথমবারের মতো পয়েন্ট ও প্রথম জয় অর্জন করেছে। আয়তনে বিশাল এই দেশটি এবারের টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় ভূখণ্ডের দেশ।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ৪৮টি দেশের মধ্যে আয়তনের হিসাবে সবচেয়ে বড় দেশ কানাডা। প্রায় এক কোটি বর্গকিলোমিটারের এই দেশ শুধু এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ভূখণ্ডের দেশই নয়, পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃত্তম রাষ্ট্রও। পূর্বের আটলান্টিক থেকে পশ্চিমের প্রশান্ত মহাসাগর, উত্তরে আর্কটিকের বরফের রাজ্য পর্যন্ত বিস্তৃত এই দেশে হাজার হাজার হ্রদ, অসংখ্য নদী ও অনন্ত বনভূমি রয়েছে।
কানাডার ইতিহাস হাজার বছরের পুরনো। আদিবাসী জনগোষ্ঠী এই ভূমিতে বসবাস করতেন। পরে ইউরোপীয় অভিযাত্রীরা আসেন এবং ১৮৬৭ সালে আধুনিক কানাডার যাত্রা শুরু হয়। আজ এটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র ও সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
অর্থনীতিতে কানাডা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র। তেল, গ্যাস, খনিজ, বনসম্পদ, কৃষি, প্রযুক্তি ও আর্থিক সেবায় এর অর্থনীতি সমৃদ্ধ। দেশটির সবচেয়ে বড় শক্তি মানুষ—পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে আসা বহুজাতিক মানুষের দেশ এটি।
ফুটবলে কানাডার যাত্রা দীর্ঘদিনের। ১৯৮৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেয় তারা। তারপর ২০২২ সালে আবার আসে। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে তারা ইতিহাস গড়েছে।
প্রথম ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১–১ ড্র করে তারা বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট তুলে নেয়। বদলি হিসেবে নেমে গোল করেন সাইল লারিন।
এরপর আসে ঐতিহাসিক রাত। কাতারের বিপক্ষে ৬–০ গোলের দুর্দান্ত জয়ে বিশ্বকাপে কানাডার ইতিহাসের প্রথম জয় অর্জন করে। জোনাথন ডেভিড হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস লেখেন। সাইল লারিন ও নাথান সালিবাও গোল করেন। তবে এই আনন্দের মাঝে মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ইসমাইল কোনের গুরুতর চোট পুরো দলকে আবেগে ভাসিয়ে দেয়।
এখন কানাডিয়ান ফুটবল আগের মতো নয়। আছে গতি, আত্মবিশ্বাস, সাহস ও পরিকল্পনা। জোনাথন ডেভিড ও আলফন্সো ডেভিস পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।