সব সংবাদ
খেলা

দারিদ্র্য থেকে শীর্ষ গোলদাতা: লুকাকুর অসাধারণ যাত্রা

বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ড রোমেলু লুকাকু ফুটবল জগতের এক অনন্য গল্প। শৈশবের দারিদ্র্য ও অভাবের মধ্যে থেকে তিনি পাড়ি জমিয়েছেন সাফল্যের শীর্ষে। অ্যান্ডারলেখট, এভারটন, ইন্টার মিলান ও চেলসির হয়ে খেলে তিনি বেলজিয়ামের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

অ্যান্টওয়ার্প শহরে জন্ম নেওয়া রোমেলু লুকাকুর শৈশব কেটেছে দারিদ্র্য আর অভাবের মধ্য দিয়ে। তার বাবা রজার লুকাকু ছিলেন পেশাদার ফুটবলার, কিন্তু ক্যারিয়ার থেমে যায় খুব তাড়াতাড়ি। সেই স্বপ্ন যেন ছেলের মধ্য দিয়ে নতুন করে জেগে ওঠে। ছোটবেলা থেকেই লুকাকুর শারীরিক গঠন ছিল বয়সের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী।

গতি ও গোল করার অসাধারণ দক্ষতায় তিনি দ্রুত নজরে আসেন বেলজিয়ামের ক্লাব অ্যান্ডারলেখটের। অল্প বয়সেই সিনিয়র দলে জায়গা করে নেন এবং ১৫টির বেশি গোল করেন। এরপর শুরু হয় ইউরোপজুড়ে তার পথচলা। চেলসিতে প্রথম দফায় সুযোগ কম পেলেও ধার হিসেবে ওয়েস্ট ব্রমউইচ অ্যালবিয়ন ও এভারটনে খেলার সময় নিজের আসল রূপ দেখান। এভারটনের জার্সিতে এক মৌসুমেই ২০টির বেশি গোল করেন।

তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল সময় কাটে ইতালির ইন্টার মিলানে। দুই মৌসুমে প্রায় ৬০টি গোল ও অ্যাসিস্টে সরাসরি অবদান রেখে তিনি সিরি আ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। লাউতারো মার্টিনেজের সঙ্গে তার জুটি প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগের জন্য এক ভয়ংকর সমন্বয় হয়ে ওঠে। পরে তিনি আবার চেলসিতে ফিরলেও প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি।

বেলজিয়াম জাতীয় দলে লুকাকু ইতিহাসের সবচেয়ে সফল গোলদাতা। জাতীয় দলের হয়ে তার গোল সংখ্যা ৮০ এরও বেশি। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে তার পেশাদার ক্যারিয়ারের গোল সংখ্যা ৩০০র বেশি।

বিশ্বকাপ মঞ্চেও তিনি বেলজিয়ামের আক্রমণের প্রধান অস্ত্র। ২০১৪ বিশ্বকাপে গোল করে নিজের উপস্থিতি জানান দেন। ২০১৮ বিশ্বকাপে চারটি গোল ও অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়ে বেলজিয়ামকে সেমিফাইনালের পথে নিয়ে যান। ব্রাজিলের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তার শারীরিক উপস্থিতি ও অ্যাসিস্ট ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

ব্যক্তিগত জীবনে লুকাকু সবসময় নিজের শেকড়কে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। তার মা রোজেন্থার লুকাকুর জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শৈশবের দারিদ্র্য, সংগ্রাম আর ব্যর্থতার কথা কখনো লুকাননি। তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও লড়াইয়ের মানসিকতা তাকে এতদূর উঠিয়ে এনেছে।