সব সংবাদ
ফেনী

সোনাগাজীতে চিংড়ি পোনা শিকারে মহোৎসব: প্রজাতি বিলুপ্তির আশঙ্কা, নদী শূন্য হওয়ার পথে

সোনাগাজীর উপকূলীয় এলাকায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে চিংড়ি পোনা আহরণ। এতে প্রতিটি চিংড়ি পোনার জন্য শতাধিক অন্য মাছের পোনা ধ্বংস হচ্ছে। পাঁচ বছরে জোয়ারের পানিতে ডুবে ও বজ্রপাতে পাঁচজন মারা গেলেও এই শিকার থামেনি।

সোনাগাজী উপজেলার বড় ফেনী নদীর মুহুরী সেচ প্রকল্প এলাকা থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ইছাখালী, বানচন্দ খাল, চর খোন্দকার, জেলেপাড়া এবং ছোট ফেনী নদীর সাহেবের ঘাট সেতু থেকে দক্ষিণে সন্দ্বীপ চ্যানেল পর্যন্ত বিশাল এলাকায় প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ চিংড়ি পোনা আহরণ করা হচ্ছে। খুলনা, রংপুর, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা থেকে আসা প্রায় দুই হাজার লোক এখানে পোনা শিকারে নেমেছেন। তারা স্থানীয় আড়ৎদারদের মাধ্যমে এই পোনা খুলনা, ঢাকা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার চিংড়ি ঘেরে (খামারে) পাঠিয়ে থাকেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ৮-১০ বছরের শিশুসহ নারীরাও নদীতে চিংড়ি পোনা আহরণ করছেন। তারা মশারির জাল ব্যবহার করে গলদা ও বাগদা চিংড়ি পোনা ধরেন। এই পোনা প্রতিটি ১-২ টাকায় স্থানীয় মহাজনরা কিনে আড়তে জমা করেন এবং পরে ৫-৮ টাকায় খামার মালিকদের কাছে বিক্রি করেন। তবে এই শিকারে অন্য প্রজাতির হাজারো মাছের পোনা মেরে ফেলা হচ্ছে। নদীর তীরে মরা মাছের দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

খুলনার আলতাফ শেখ নামে একজন মৎস্যজীবি বলেন, তিনি ৩৮ বছর ধরে এই এলাকায় পোনা শিকার করছেন। প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার টাকা আয় হয়, যার থেকে দুই-চারশ টাকা স্থানীয় সমিতির কর্তাদের দিতে হয়। অন্যথায় নদীতে নামতে দেওয়া হয় না। অনেকে মহাজনদের কাছ থেকে চক্রবৃদ্ধি হারে দাদন (ঋণ) নিয়ে পোনা ধরতে বাধ্য হন।

সোনাগাজী উপজেলার চর চান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সামছুদ্দিন খোকন বলেন, এ অঞ্চলের গলদা চিংড়ির গুণগত মান অত্যন্ত উন্নত। একে অনেকে সাদা সোনা বলে থাকেন। তবে চিংড়ি পোনা ধরতে গিয়ে অন্য প্রজাতির মাছের পোনা ধ্বংস করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তার বলেন, এই অপরিকল্পিত পোনা আহরণের ফলে অন্য মাছের পোনা বিলুপ্ত হচ্ছে এবং নদীগুলো মাছশূন্য হয়ে পড়ছে। মৎস্য বিভাগ থেকে বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে চিংড়ি পোনা ধরতে গিয়ে অন্য প্রজাতির মাছ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।