সব সংবাদ
জাতীয়

কম্বোডিয়ায় কর্মী পাঠানোর ফাঁদ: স্ক্যাম সেন্টারে বাংলাদেশি তরুণদের চরম অপমান

আকর্ষণীয় কাস্টমার কেয়ার চাকরির প্রলোভনে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশি তরুণদের। সেখানে পৌঁছানোর পর তারা আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণা চক্রের জিম্মি হয়ে পড়ছেন। নারী সেজে বিদেশিদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি এবং বিনিয়োগের ফাঁদ পাতার কাজে বাধ্য করা হচ্ছে। কাজে অস্বীকৃতি জানালে চলছে মারধর ও নির্যাতন।

উচ্চ বেতনের কাস্টমার কেয়ার চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশি তরুণদের। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তারা বুঝতে পারেন— চাকরি নয়, তারা পড়েছেন আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণা চক্রের খপ্পরে। মানিকগঞ্জের এক তরুণের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, তাকে নারী পরিচয়ে বিদেশিদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার কাজে বাধ্য করা হতো। টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় শতাধিক মানুষকে বার্তা পাঠাতে হতো। যারা সাড়া দিতো, তাদের সঙ্গে আবেগী সম্পর্ক তৈরি করে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা এবং বিনিয়োগের নামে প্রতারণার ফাঁদ পাতার নির্দেশ দেওয়া হতো। পুরো কাজের জন্য আলাদা স্ক্রিপ্ট ছিল— কবে কী বলতে হবে, কখন বিনিয়োগের কথা তুলতে হবে, সবই আগে থেকে নির্ধারিত থাকত। কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে চলত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে রাখা হতো। পাসপোর্ট কোম্পানির কাছে জমা থাকত। বাইরে যাওয়ার অনুমতি ছিল না। অনেককে টর্চার সেলে নিয়ে মারধর ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো। নির্যাতনের মুখে অনেকেই বাধ্য হয়ে কাজ চালিয়ে যেতেন। যাত্রাপথে ব্যবহার করা হতো বিশেষ কোড-নেম— কারও 'আম', কারও 'জাম', কারও 'তেঁতুল'। এই কোড ব্যবহার করে তারা বিনা প্রশ্নে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পার হতো। বিএমইটির ছাড়পত্র থাকলেও যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে চাকরির ডিমান্ড লেটার দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে তাদের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। স্ক্যাম চক্রগুলো মূলত তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ, ইংরেজিতে যোগাযোগে সক্ষম তরুণদের টার্গেট করে। ফেসবুক, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, লিংকডইন কিংবা পরিচিতজনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তাদের উচ্চ বেতন, আন্তর্জাতিক চাকরি ও দ্রুত পদোন্নতির প্রলোভন দেখানো হয়। অফার লেটার, ভিসা ও অন্যান্য নথি দেখিয়ে প্রস্তাবকে বিশ্বাসযোগ্য করা হতো। কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশের নিজস্ব দূতাবাস না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ছে। সম্প্রতি কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে কয়েকটি স্ক্যাম কম্পাউন্ডে অভিযান চালিয়ে ২২১ জন বাংলাদেশি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বিদেশে যাওয়ার আগে ভিসা, নিয়োগপত্র এবং চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান অবশ্যই যাচাই করতে হবে। শুধু ফেসবুক পোস্ট বা পরিচিত কারও কথার ওপর নির্ভর না করে তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।