তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভাঙন, ১৪ লাখ টাকার বাঁশের পাইলিং ভেঙে চুরমার
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মহিপুর তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এলজিইডির ১৪ লাখ টাকায় বসানো বাঁশের পাইলিং ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। হুমকিতে পড়েছে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু ও রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় মহিপুর তিস্তা সেতুর রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ২০ জুন শনিবার সন্ধ্যা থেকে সেতুটির উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের রক্ষা বাঁধে ভাঙন শুরু হয়। রাত ৮টা পর্যন্ত সময়ে ৩০ মিটারের বেশি অংশ ভেঙে ৬০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। এলজিইডির ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বসানো বাঁশের পাইলিং পুরোপুরি ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুসহ রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক। প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে অন্তত ৩০-৩৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের তিন গ্রামের এক হাজারের বেশি পরিবার সরাসরি হুমকির মুখে রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, গত বছর ওই বাঁধটির প্রায় ১০০ ফুট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। সেসময় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশের পাইলিং দিয়ে রক্ষার চেষ্টা করেছিল এলজিইডি। কিন্তু পরবর্তীতে আর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সেই পাইলিং ভেদ করে আবারও পানির স্রোতে ভাঙছে বাঁধটি। স্থানীয় বাসিন্দা রিপন ও কাইয়ুম বলেন, নদীতে পানি বাড়তেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। তারা এখন ভীষণ ভয়ে আছেন। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার শাহনাজ বেগম বলেন, সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শহরে যান। সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। তিস্তা সেতু এলাকার বাসিন্দা শিক্ষার্থী বাদশা মিয়া বলেন, বাঁধ ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে, অথচ এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কৃষক খোরশেদ আলী বলেন, এই বাঁধ ভেঙে গেলে শুধু সেতুই নয়, আবাদি জমিও নদীতে চলে যাবে। এলজিইডি শুধু আশ্বাস দিয়েছে, কোনো কাজ করেনি। লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, গত বছর ভাঙন ধরলে এলজিইডিকে বলেছিলেন ব্লক দিয়ে ভাঙন ঠেকাতে। কিন্তু তারা সেটা শোনেননি। এবার সেই পাইলিংও শেষ, আবারো ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি ঠেকানো না গেলে সেতুর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতে পারে। গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান জানান, গত বছর ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শন করে এ ধরনের পাইলিং করার পরামর্শ দিয়েছিল। সেকারণে সেটা করা হয়েছিল। আবারো ভাঙন ধরায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।