সব সংবাদ
খেলা

বিশ্বকাপে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে মুখোমুখি ইকুয়েডর ও কুরাসাও

ফুটবল বিশ্বকাপের ই-গ্রুপে উদ্বোধনী ম্যাচে হেরে যাওয়া ইকুয়েডর ও কুরাসাও আজ রোববার ভোর ৬টায় মুখোমুখি হচ্ছে। ইকুয়েডর আইভরি কোস্টের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল, আর কুরাসাও জার্মানির কাছে ৭-১ বিধ্বস্ত হয়েছিল। দুই দলের জন্যই এই ম্যাচ নকআউটে যাওয়ার শেষ সুযোগ।

ফুটবল বিশ্বকাপের ই-গ্রুপে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইকুয়েডর ও কুরাসাও। উদ্বোধনী ম্যাচে দুই দলই হেরে যাওয়ায় এই ম্যাচটি তাদের কাছে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার শেষ সুযোগ। রোববার ভোর ৬টায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।

ইকুয়েডর প্রথম ম্যাচে ফিলাডেলফিয়ায় আইভরি কোস্টের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট সমানে-সমান লড়াই করেছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে (৯০ মিনিটে) গোল হজম করে ১-০ গোলে হেরেছিল। এই হার দুই বছর এবং টানা ১৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর ল্যাটিন আমেরিকার দলটির জন্য একটি বড় ধাক্কা।

অন্যদিকে, কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে শক্তিশালী জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হতে হয়েছে কুরাসাওকে। তবে প্রথমার্ধে তারা জার্মানিকে ৩৮ মিনিট পর্যন্ত আটকে রেখেছিল এবং লিভানো কোমেনেনসিয়ার মাধ্যমে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ গোলটি করেছিল।

এবারের বিশ্বকাপে ৪৮টি দলের অংশগ্রহণের কারণে নকআউটে যাওয়ার সমীকরণ অনেকটা সহজ হয়ে গেছে। গ্রুপ পর্বে চার পয়েন্ট পেলেই পরের রাউন্ড নিশ্চিত হয়, এমনকি তিন পয়েন্ট নিয়েও কিছু ক্ষেত্রে শেষ বত্রিশে জায়গা করা সম্ভব। তাই দুই দলই এই ম্যাচ থেকে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নিতে মরিয়া।

ইকুয়েডরের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম ৩৬ বছর বয়সী অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার এনার ভ্যালেন্সিয়া। দেশের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৬টি গোল করা এই তারকা প্রথম ম্যাচে পোস্টের গায়ে বল লাগিয়ে গোলবঞ্চিত হন। পুরো ফিটনেসে থাকা ভ্যালেন্সিয়াই দলটির আক্রমণের মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছেন।

ইকুয়েডরের স্কোয়াডে ভ্যালেন্সিয়া ছাড়া অন্য কোনো স্ট্রাইকারের আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা দুই অঙ্কের ঘরে না পৌঁছালেও দলটিতে রয়েছে একঝাঁক প্রতিভাবান তারকা। ডিফেন্সে পিয়েরো হিনকাপি ও উইলিয়ান পাচো, মাঝমাঠে চেলসির মোইসেস কাইসেদো ও তরুণ কেন্দ্রি পায়েজ এবং আক্রমণে গঞ্জালো প্লাটা কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ ভেঙে চুরমার করতে প্রস্তুত।

ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকেটের অধীনে থাকা কুরাসাও জার্মানির বিপক্ষে প্রথম ৩৮ মিনিট যেভাবে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আটকে রেখেছিল, সেই দারুণ পারফরম্যান্স পুরো ৯০ মিনিট ধরে রাখাই তাদের মূল চ্যালেঞ্জ হবে। কুরাসাও শিবিরে কোনো ইনজুরির সমস্যা নেই।

আক্রমণভাগে অধিনায়ক লিয়েন্দ্রো বাকুনা ও জুনিনহো বাকুনার অভিজ্ঞতা এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ফরোয়ার্ড তাহিথ চংয়ের গতি ইকুয়েডরের রক্ষণভাগকে পরীক্ষায় ফেলতে পারে।

ভৌগোলিক দিক থেকে দুই দল কাছাকাছি অঞ্চলের হলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে এটিই তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক দেখা। প্রথম ম্যাচে হারের পর নকআউটের দৌড়ে টিকে থাকতে ইকুয়েডর যেখানে মরিয়া, সেখানে কুরাসাওয়ের লক্ষ্য বিশ্বমঞ্চে বড় কোনো অঘটন ঘটানো।